দ্বীপ জেলা ভোলাকে বরিশালের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনতে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর দেশের দীর্ঘতম সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। তবে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) জানিয়েছে, সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। জরিপ ও সংশ্লিষ্টদের আলোচনার ভিত্তিতে ভোলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাট বরাবর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ১০ কিলোমিটার সেতুর প্রায় তিন কিলোমিটার শ্রীপুর চরের ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে ভোলা ও বরিশালের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিবিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মুহাম্মদ ফেরদৌস জানিয়েছেন, সেতুটির মাধ্যমে ভোলা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আনার সুযোগও তৈরি হতে পারে। সেতুর ওপর দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে বরিশাল থেকে ভোলায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। নদীপথেই যাতায়াত করতে হয়। বরিশাল থেকে ভোলার ভেদুরিয়া যেতে লঞ্চে প্রায় দুই ঘণ্টা এবং স্পিডবোটে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। ভেদুরিয়া থেকে ভোলা সদর যেতে আরও প্রায় ৩০ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়।
সম্ভাব্যতা জরিপে বলা হয়েছে, ভোলা থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বর্তমানে নৌযানের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বৈরী আবহাওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হলে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
ভোলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বরিশালের সঙ্গে সেতু যোগাযোগ তৈরি হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং সময় ও পরিবহন ব্যয় কমতে পারে। একই সঙ্গে দুই জেলার মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতও সহজ হবে।
সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে। বিবিএ জানিয়েছে, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে। অর্থায়নের বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবে।
বিবিএ সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে জরিপের কিছু বিষয় আরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরপর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত সেতুর ব্যয় পদ্মা সেতুর তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এতে রেললাইন রাখার পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি তেঁতুলিয়া নদীর নদীশাসন পদ্মার তুলনায় তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে প্রাথমিক জরিপে ধারণা করা হয়েছে।
সেতুটি নির্মিত হলে দীর্ঘদিনের নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ভোলা সরাসরি বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
