মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সামরিক সরকারের কাছে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তর এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে নরওয়ের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অসলোর ফোর্নেবুতে অবস্থিত টেলিনরের প্রধান কার্যালয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২২ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে টেলিনরের কার্যক্রমের ওপর দুটি তদন্ত চলছে। নরওয়ের জাতীয় অপরাধ তদন্ত সংস্থা (ক্রিপোস) মানবতাবিরোধী অপরাধে টেলিনরের সম্ভাব্য সহযোগিতা যাচাই করছে, আর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (পিএসটি) নজরদারি সরঞ্জাম বিক্রির অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই নজরদারি সরঞ্জাম বিক্রি নরওয়ে আইন অনুযায়ী অপরাধ।

সুইডেনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা এবং মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা গত বছরের শুরুতে টেলিনরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, টেলিনর তাদের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সামরিক সরকারের হাতে দিয়েছিল, যা পরে গণতন্ত্রকামী আন্দোলন কর্মীদের শনাক্ত ও শাস্তি প্রদানে ব্যবহৃত হয়।

২০২১ সালের শেষে টেলিনর তাদের মিয়ানমার শাখা লেবানিজ প্রতিষ্ঠান 'এমওয়ান গ্রুপ'-এর কাছে বিক্রি করে। টেলিনর ফাঁস করে যে, স্থানীয় কর্মীদের উপর সামরিক সরকারের মানসিক চাপ ছিল এবং নির্দেশ না মানলে কারাদণ্ড বা মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল, তাই তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা 'জাস্টিস ফর মায়ানমার' ২০২৪ সালের ডিসেম্বর টেলিনরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে। সংস্থার মুখপাত্র ইয়াদানার মং জানিয়েছেন, তথ্য প্রমাণসহ স্পাইওয়্যার সরবরাহ এবং তথ্য হস্তান্তরের নথিভুক্ত দলিল রয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই আইনি পদক্ষেপ টেলিনরের কার্যক্রমের কারণে মিয়ানমারের জনগণের ক্ষতির বিচার নিশ্চিত করবে।

২০১৪ সালে মিয়ানমারে ব্যবসা শুরু করা টেলিনরের তখনকার গ্রাহকসংখ্যা ছিল এক কোটি ৮০ লাখের বেশি। সামরিক অভ্যুত্থানের পর ২০২১ সালের জুলাইয়ে তারা দেশ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।