ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হলেও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি দেশটির স্বার্থের অধীন হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

অল-ইন পডকাস্ট আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে। তবে দুই দেশের স্বার্থ সব বিষয়ে এক হবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ভ্যান্স বলেন, কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন হলে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত।

তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল নীতির উদাহরণ টেনে দাবি করেন, গত কয়েক দশকের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখাতে বেশি প্রস্তুত ছিলেন। এটি ভ্যান্সের রাজনৈতিক মূল্যায়ন।

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখলেও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর অবস্থান মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে না মিললে ট্রাম্প ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। এমনকি কোনো নীতি ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হলেও সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযোগী না হলে ওয়াশিংটনের আলাদা পথে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তিই হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ। ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে তিনি ন্যাটোর উদাহরণও দেন। ভ্যান্স বলেন, ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ইউরোপবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ন্যাটোর অবস্থানের অধীন হয়ে যাবে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতিও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের অধীন হওয়া উচিত নয়।

ভ্যান্স বলেন, যেসব ক্ষেত্রে স্বার্থ ও অবস্থান মিলবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। আবার যেসব বিষয়ে মতবিরোধ থাকবে, সেসব ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন নিজের অবস্থান বজায় রাখবে।

এর আগেও ইসরায়েল নিয়ে কাছাকাছি অবস্থান তুলে ধরেছিলেন ভ্যান্স। গত জুনে তিনি বলেছিলেন, নেতানিয়াহুর নীতির সমালোচনা করলেই তা ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। একই সময় তিনি স্বীকার করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা উচিত, তা নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে সামরিক, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে ভ্যান্সের সর্বশেষ বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে এমন একটি অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিত্রতার পাশাপাশি মার্কিন জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি