ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মশা নিধনের জন্য কেরোসিন ব্যবহার এবং বর্জ্য সংগ্রহে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার অভিযান পরিচালনা করেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের মিলিতভাবে মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহ ও ব্যবহারে অনিয়ম করছে। পরীক্ষার সময় মানসম্পন্ন কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে কেরোসিন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়াও, মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও হিসাব শাখার কর্মীদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২০১১ ও ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের কারণে কালো তালিকাভুক্ত হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় বদলে মিজানুর রহমান ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে ডিএসসিসিতে কাজ শুরু করেন।
গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনটি কার্যাদেশে ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযান বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। অভিযোগে বলা হয়, সিটি করপোরেশন নিয়ম অনুযায়ী ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় ১২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
তারপরও, দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি, মারধর ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং বর্জ্য সংগ্রহের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য অনুষ্ঠিত হওয়ার উল্লেখ আছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
