সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ সেপ্টেম্বর এ মনোনয়নের ঘোষণা আসে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে হান্টকে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে অতীতে তার দেওয়া বেশ কিছু মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

হান্টের সামরিক ও মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইরাকে একাধিক যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে কূটনৈতিক যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন।

ইসলাম নিয়ে হান্টের বক্তব্য

সৌদি আরবে বসবাস ও ইরাকে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হান্ট বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে থাকার সময় তিনি দেশটির আইন ও সামাজিক ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতে থাকা নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়ও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।

২০২৬ সালের শুরুতে একটি টকশোতেও হান্ট ইসলাম সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে তার কিছু বক্তব্যকে যারা ‘ভয় ছড়ানো’ হিসেবে দেখেন, তাদের সমালোচনা করেন তিনি।

হান্টের কিছু মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনাও হয়েছে। বিভিন্ন অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক তার বক্তব্যকে মুসলিমদের বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ তাদের বক্তব্য হিসেবেই এসেছে।

ইসরাইলের প্রতি স্পষ্ট সমর্থন

ইসরাইলের প্রতি হান্টের দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টিও তার রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০২২ সালে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির এক অনুষ্ঠানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। ইসরাইলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষেও তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন হান্ট। তবে এসব চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কভাবে এগোনোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান জানান তিনি।

সামনে সিনেটের অনুমোদন

সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে হলে হান্টকে প্রথমে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পেতে হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সামরিক অভিজ্ঞতা, সৌদি আরবে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা—এই তিনটি বিষয়ই তার নতুন দায়িত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই