দেশের শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মেধায় পিছিয়ে নেই, তবে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য তাদের এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার ও প্রভাব বাড়ছে। পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভবিষ্যতের শিল্পব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রজন্মকে কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা এবং শিল্প খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রয়োজন।
তিনি জানান, দেশের শিক্ষাক্রমকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। সরকার ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, কর্মদক্ষতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোকে এতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের কার্যক্রমও ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রয়োজন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জিমনেসিয়াম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই প্রত্যেককে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং দেশ ও সমাজের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে আয়োজিত নবীনবরণে প্রায় ২ হাজার ১০০ নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন বলে আয়োজক সূত্রে জানানো হয়েছে।
