ইরানের সস্তা ড্রোন মোকাবেলায় আমেরিকার ব্যয়বহুল হীরা ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম প্রায় ফাঁপে আসছে বলে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের রিপোর্টে জানা যায়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২২.৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ছুঁড়েছে, যা মোট ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলারের বিলের একটি বড় অংশ। এই পরিস্থিতির ফলে রকেট, বিস্ফোরক ও কারিগরি জনবল সংকট দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমেরিকার থাড ক্ষেপণাস্ত্রের চল্লিশ শতাংশ এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের এক তৃতীয়াংশ ব্যবহার হয়ে গেছে। লকহিড মার্টিন ও রেথিয়ন নামের দুই কোম্পানি যথাক্রমে বছরে ২৬ ও প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে থাকলেও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র আসতে আরও কমপক্ষে ত্রিশ মাস সময় লাগবে।
ইরানের সস্তা ড্রোন কিছু হাজার ডলারের মধ্যে হলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এতে মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহঘর সংকটাপন্ন হচ্ছে। পেন্টাগন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সময় কমানোর চেষ্টা করছে, তবে উল্লেখ করেছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা কাটিয়ে উঠতে হবে।
এশিয়া ও ইউরোপের অস্ত্র ভাণ্ডার থেকে অস্ত্র এনে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে, যা সামরিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধার কারণ হচ্ছে। পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু করা যায় দ্রুত, কিন্তু পণ্য উৎপাদনের কারখানা দ্রুত তৈরি করা সম্ভব নয়।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে ইরানের কৌশল হল সস্তা ড্রোন পাঠিয়ে আমেরিকার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করানো, যার ফলে আমেরিকার অস্ত্র মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। মার্কিন সেনাবাহিনী নিজস্ব রিপোর্টে অস্ত্র কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করছে এবং বিষয়টি শক্তির সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
