ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নতুন ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

সিবিএস জানিয়েছে, ছবিগুলো তাদের কাছে পাঠিয়েছেন বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মার্কিন সামরিক সদস্য। সামরিক বাহিনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব ছবি দিয়েছেন। CBS News

সংশ্লিষ্ট এক সেনাসদস্যের দাবি, ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার পুরো চিত্র এখনো মার্কিন জনগণের সামনে আসেনি।

প্রকাশিত ছবির একটি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে তোলা। সেখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি এডব্লিউএসি বিমানকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। বিমানটির পেছনের অংশে সরাসরি আঘাতের চিহ্ন এবং লেজের অংশ মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে। CBS News

সিবিএসের তথ্যমতে, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১০ মার্কিন সেনাসদস্যও আহত হয়েছিলেন। CBS News

এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিং ও ক্যাম্প আরিফজানেও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ব্যারাক ও যানবাহনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো কোনো স্থানে কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল অক্ষত থাকলেও পাশের ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি বিমানও রয়েছে। একই প্রতিবেদনে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন অবস্থানে ইরানি হামলার তথ্য দেওয়া হয়েছে। 

তবে সিবিএসের নতুন প্রতিবেদনের বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এর আগে জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও ইরানি হামলায় একটি এ-১০ বিমানের ডানা ক্ষতিগ্রস্ত এবং কয়েকটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল সিবিএস নিউজ।

সূত্র: সিবিএস নিউজ