সাম্প্রতিক হুতি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মক্কা ছাড়াও জেদ্দা ও তাইফসহ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব জানায়, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও সেখানে যাওয়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। তবে হুতিরা এর আগেও মক্কা বা কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স সতর্কবার্তায় জনগণকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়। পরে মক্কায় বিপদের পরিস্থিতি কেটে গেছে বলেও জানানো হয়।
এনডিটিভি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, একই সময়ে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। সোমবার হুতিরা খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার দাবি করে। এর পরদিন হুতিরা অভিযোগ করে, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মক্কায় সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শরিফ এই শহরেই অবস্থিত এবং সারা বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসলিম হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান।
তবে মক্কার ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ কিংবা হজ-ওমরাহ পালনে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আলজাজিরা
